1. tarekahmed884@gmail.com : AdminLWTarek :
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের দেশ সিলেটে ঘুরে আসুন । - Learn With Tarek
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের দেশ সিলেটে ঘুরে আসুন ।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের দেশ সিলেটে ঘুরে আসুন ।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
সিলেটের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। ভোলাগঞ্জ দেশের সর্ববৃহত্তম পাথর কোয়ারির অঞ্চল। এখান থেকে ছাতক পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বা রজ্জুপথ। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা

অবস্থান

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চমৎকার একটি গ্রাম ভোলাগঞ্জ। রোপওয়ে, পাথর কেয়ারী, নদী আর পাহাড়ে মিলে এই ভোলাগঞ্জ। সিলেট শহর থেকে ভোলাগঞ্জ এর দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। ধলাই নদীর বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে প্লান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে

ইতিহাস

ভারতের তৎকালীন আসাম প্রদেশের রাজধানী শিলংয়ে একসময় লোকজন এ রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতেন। কালের পরিক্রমায় এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রজ্জুপথ। নাম ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে। দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির অবস্থানও এ এলাকায়। রোপওয়ে, পাথর কোয়ারি আর পাহাড়ি মনোলোভা দৃশ্য অবলোকনে প্রতিদিনই পর্যটকদের আনাগোনা চলে।

বর্ণনা

পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান। বর্ষাকালে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির পানি ধলাই নদীর পাহাড়ী ঢলের সৃষ্টি করে। গ্রীষ্মকালে অনেকে ধলাই নদীর মরা নদী
হিসাবে অভিহিত করলেও বর্ষাকালে নদীটি ফুলে ফেঁপে উঠে। ধলাই নদীর মনোলোভা রূপ, সবুজ পাহাড় বন্দী এলাকা জুড়ে অজস্র সাদা পাথর, আকাশের নীল ছায়া রেখে যায় পাথরে জমে থাকা স্ফটিক জলে। দূরের পাহাড়গুলোর উপর মেঘের ছড়াছড়ি, সাথে একটা দুটো ঝর্ণার গড়িয়ে পড়া। নদীর টলমলে হাঁটু পানির তলায় বালুর গালিচা। চিক চিক করা রূপালী বালু আর ছোট বড় সাদা অসংখ্য পাথর মিলে এ যেন এক পাথরের রাজ্য। প্রকৃতির খেয়ালে গড়া নিখুঁত ছবির মত সুন্দর এই জায়গাটির নাম ভোলাগঞ্জ।

কাস্টমস স্টেশন

ভোলাগঞ্জে রয়েছে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলে এ স্টেশন দিয়ে। ভারত সীমান্তের জিরো লাইনের এই কাস্টমস স্টেশনে দাড়িয়ে অপারের সৌন্দর্য্য প্রত্যক্ষ করা যায়।
পাথর আহরণের দৃশ্য
ভোলাগঞ্জ কোয়ারীতে শুষ্ক মওসুমে প্রধানত গর্ত খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে শ্রমিকরা প্রথমে কোয়ারীর ওপরের বালি অপসারণ করে। পর্যায়ক্রমে গর্ত খুঁড়ে নিচের দিকে যেতে থাকে। ৭/৮ ফুট নিচু গর্ত খোঁড়ার পর কোয়ারীতে পানি উঠে যায়। পানি উঠে গেলে শ্যালো মেশিন দিয়ে কোয়ারীর পানি অপসারণ করে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলন করে। এর বাইরে‘শিবের নৌকা’ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হয়।

কিভাবে যাওয়া যায়

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সিলেট শহরের কদমতলী আসতে হবে। কদমতলী থেকে আম্বরখানা পয়েন্টে আসতে হবে। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকেই ভোলাগঞ্জের সি এন জি পাবেন। কদমতলী থেকে নেমে রিক্সায় আম্বরখানা পয়েন্টে যেতে পারেন, ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা। আম্বরখানা থেকে ভোলাগঞ্জে লোকাল জনপ্রতি ১৩০ টাকা করে শুধু যাওয়া। চাইলে রিজার্ভও যাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে যাওয়া আসা মিলে ১২০০ টাকা। তবে অবশ্যই দরদাম করে নিতে হবে। ভোলাগঞ্জ সি এন জি দিয়ে যাওয়ার পরে আপনাকে জিরো পয়েন্টে সাদাপাথর যেতে হলে নৌকা ভাড়া করতে হবে। এক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৭০০-১০০০ টাকা। তবে এক্ষেত্রে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে ৫ জনের গ্রুপ গেলে খরচ কমে যাবে অনেকাংশে।

কোথায় থাকবেন

জেলা পরিষদের একটি রেস্ট হাউস আছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্তবধানে। থাকতে হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিতে হয়। এ ছাড়া ভোলাগঞ্জ বা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় থাকার জন্য তেমন কোন ভাল ব্যবস্থা নাই। আপনি ভোলাগঞ্জ দর্শন শেষ করে সিলেটে এসে অবস্থান করতে পারবেন।
কন্টেন্ট রাইটারঃ সানজিদা সানজু